আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম সাত সপ্তাহে সর্বনিম্নে

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের পর এবার কয়লার দামেও বড় পতন দেখা গেছে।

সাত সপ্তাহের মধ্যে কয়লার দাম এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি টন কয়লার দাম ১৩০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এর মাত্র এক মাস আগে গত ২০ মার্চ আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তখন প্রতি টন কয়লার দাম ছিল ১৪৬ ডলার ৫০ সেন্ট। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের আভাস এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে এ নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ শুরু হতে পারে, এমন প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে কয়লার ওপর চাপ কমতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লার দাম কমার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় কয়লার ব্যবহার কমে আসবে। গত কয়েক মাস এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছিল। এখন গ্যাসের সহজলভ্যতা বাড়লে কয়লার চাহিদা ও দাম দুই-ই আরো কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, কয়লার দাম কমলেও বাজার এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে এখনো একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এ কারণে গত মার্চের শুরুতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় কয়লার দাম এখনো প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।

বর্তমানে কয়লা আমদানিকারক দেশগুলো কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। যদি আগামী দিনগুলোয় রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো কমে আসে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তবে কয়লার দাম দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হতে পারে। সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পমালিকদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার এ দরপতন একটি স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

আরও